ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মান্নার গাড়িতে আগুন: গ্রেপ্তার দুই জন কারাগারে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
মান্নার গাড়িতে আগুন: গ্রেপ্তার দুই জন কারাগারে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

রাজধানীর অভিজাত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মৃত চিত্রনায়ক মান্নার ব্যক্তিগত গাড়ি মেরামতের সময় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক আটক হওয়া দুই অভিযুক্তকে শেষ পর্যন্ত বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ। রাষ্ট্রপক্ষের পুলিশি আবেদনের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তিনি এই কারাবাসের আদেশ দেন, যা গণমাধ্যমের নিকট নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজ্ঞ খাদেমুল ইসলাম।

আদালতে প্রেরিত দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন প্রয়াত চিত্রনায়কের পারিবারিক امور বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মো. মামুন মণ্ডল এবং মোটরযান কারিগরি কাজের সঙ্গে যুক্ত টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারী। তাঁদের বয়স যথাক্রমে উনত্রিশ ও সাঁইত্রিশ বছর বলে জানা গেছে।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেলুলয়েডের জনপ্রিয় অভিনেতা মান্না ২০০৮ সালে জীবনাবসান ঘটে। তাঁর ব্যবহৃত এই বিশেষ মোটরযানটি দীর্ঘসময় ধরে কোনো ধরনের ব্যবহার ছাড়াই অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। পরবর্তীতে সেটি ঠিক করার পরিকল্পনা করার সময় যান্ত্রিক কোনো ত্রুটির কারণে মূলত এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং অভিযুক্তরা স্বেচ্ছায় কোনো নাশকতা করেননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. ইয়াউর রহমান আসামিদের কাঠগড়ায় হাজির করে কারাগারে আটক রাখার এই আবেদনটি দাখিল করেছিলেন। তাঁর প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তে অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তার যুক্তিতে বলা হয়েছে, এই মামলার সামগ্রিক তদন্ত প্রক্রিয়া সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জেলহাজতে আটকে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আগামী বুধবার এই দুই আসামির জামিন সংক্রান্ত আবেদনের শুনানির দিন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত রয়েছে।

মামলার নথি বা এজাহার সূত্রে জানা যায়, বসুন্ধরা এলাকার নির্দিষ্ট একটি বহুতল আবাসিক ভবনের নিচতলার গ্যারেজে গাড়িটি পার্ক করা অবস্থায় রাখা হতো। ওই ভবনের ওপরের একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে ভাড়া থাকেন প্রয়াত অভিনেতা মান্নার স্ত্রী।

নিচতলায় রাখা ওই গাড়িটি থেকে জ্বালানি তেল চুইয়ে পড়ার কারণে ভবন কর্তৃপক্ষ সেটি দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য তাগাদা দেয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় মান্নার স্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপক মামুনকে নির্দেশ দেন গাড়িটি বাইরে কোনো গ্যারেজ বা ওয়ার্কশপে নিয়ে মেরামত করতে।

কিন্তু ব্যবস্থাপক মামুন সেই নির্দেশনা অমান্য করে টেকনিশিয়ান সোহেলকে সশরীরে ডেকে নিয়ে আসেন এবং বাইরে না নিয়ে গিয়ে ভবনের ভেতরের গ্যারেজেই কাজ শুরু করেন। গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে আনুমানিক ছয়টার সময় হঠাৎ গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়।

এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে প্রয়াত নায়কের ব্যবহৃত গাড়িটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং এর ঠিক পাশেই রাখা আরেকটি প্রাইভেট কার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আগুন লাগার ফলে কেবল গাড়ি নয়, বরং ভবনের নিচতলার গ্যারেজ, বৈদ্যুতিক তার, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং প্রবেশদ্বারের শাটারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম পুড়ে যায়। এছাড়া প্রচণ্ড তাপ ও আগুনে ভবনের বিভিন্ন অংশের কাচ ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সব মিলিয়ে আনুমানিক ৯০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ভবনের ব্যবস্থাপক মো. গাজি মানিক মিয়া বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে ভাটারা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের ঠিক পরপরই সকাল আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতর থেকেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামুন ও সোহেলকে আটক বা গ্রেপ্তার করে।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার এই গাড়িটি প্রায় দেড় বছর যাবৎ সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। গাড়িটি বাইরে নিয়ে গিয়ে সতর্কতার সঙ্গে মেরামত করার কথা থাকলেও তাঁরা মেকানিক ডেকে সরাসরি ভবনের ভেতরেই কাজ করছিলেন। মূলত সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে শফিকুর রহমান

মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে শফিকুর রহমান