ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মিসরের ক্ষমতায় নবী ইউসুফের ক্ষমা ও মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
মিসরের ক্ষমতায় নবী ইউসুফের ক্ষমা ও মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল ইউসুফের বর্ণাঢ্য জীবনের অধ্যায়টিকে ‘আহসানুল কাসাস’ বা অত্যন্ত চমৎকার কাহিনি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আসমানি গ্রন্থগুলোতে যত জীবনবৃত্তান্ত স্থান পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এই ঐতিহাসিক উপাখ্যানটি মূলত নৈতিকতার এক অতুলনীয় মহাকাব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সাধারণত মানবসমাজে তাঁর পুরো জীবনযাত্রাকে গভীর কূপের অতলে ফেলে দেওয়া, রূপসী নারীর মোহময় প্রলোভন অত্যন্ত সফলভাবে প্রতিহত করা, মিথ্যা অভিযোগে দীর্ঘদিন কারাগারের প্রকোষ্ঠে কাটানো এবং পরবর্তীতে মিসরের অর্থ ও খাদ্যমন্ত্রীর সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার এক অভাবনীয় অলৌকিক ধারা হিসেবেই মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।

তবে এই অত্যন্ত পরিচিত ও আলোচিত ঘটনাগুলোর গভীর অন্তরালে সুনিপুণভাবে লুকিয়ে রয়েছে তাঁর অসাধারণ প্রজ্ঞা, তীব্র আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা, অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিদের মানসিকতার সংস্কার সাধন এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের অত্যন্ত যুগান্তকারী সব অধ্যায়। রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত সব দুঃখ-কষ্টকে সম্পূর্ণ পেছনে ফেলে তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতার পরিবর্তে সমাজ সংস্কার ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন দূরদর্শী নেতৃত্বের এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অতি উচ্চ শিখরে পৌঁছানোর পর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা কিংবা তাদের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করা খুবই সাধারণ ও সহজাত একটি মানবীয় প্রবৃত্তি। কিন্তু ইউসুফ যখন মিসরের শাসনক্ষমতা লাভ করলেন এবং তাঁর ওপর চরম অত্যাচারকারী ভাইয়েরা খাদ্যের তীব্র প্রয়োজনে মিসরের রাজদরবারে এসে হাজির হলো, তখন তিনি কোনো ধরনের প্রতিশোধের সংকীর্ণ পথ বেছে নেননি। শুধুমাত্র শারীরিক শাস্তি প্রয়োগ করলে তাদের ভেতরের অপরাধবোধ কখনোই জাগ্রত হতো না, আর তাই তিনি তাদের মনের ভেতরের ক্ষতিকর হিংসা ও অহংকার চিরতরে দূর করে আত্মশুদ্ধি অর্জনের দীর্ঘ পথ তৈরি করলেন।

প্রথমবারের সেই সাক্ষাতে নিজের আসল পরিচয় গোপন রেখে তিনি অত্যন্ত সুকৌশলী এক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ভাইদের প্রতি তিনি ছোট ভাই বিন ইয়ামিনকে তাদের সাথে করে নিয়ে আসার কড়া শর্ত জুড়ে দেন এবং পরবর্তীতে বিশেষ কৌশলে তাকে মিসরের মাটিতে আটকে রাখেন। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল তাদের মনের গভীরে এতকাল সুপ্ত থাকা অপরাধবোধকে সঠিকভাবে জাগিয়ে তোলা।

যখন তারা তাদের ছোট ভাই বিন ইয়ামিনকে নিরাপদে রক্ষা করার জন্য তাদের সম্মানিত পিতার কাছে অতীতে দেওয়া অঙ্গীকারের কারণে নিজেদের ভীষণভাবে অসহায় ও কোণঠাসা অনুভব করতে শুরু করল, তখন তাদের জ্যেষ্ঠ ভাই জুহুদা অতীতে ইউসুফের সাথে করা নিজেদের অপরাধ এবং এর কারণে তাদের পিতার অসীম বেদনার কথা স্পষ্টভাবে স্মরণ করে তীব্র আত্মগ্লানিতে ভেঙে পড়েছিল।

পবিত্র কোরআনুল কারিমে এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্যটি দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, ‘তারা বলল, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে আমাদের ওপর স্পষ্টভাবে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আমরা নিঃসন্দেহে অপরাধী ছিলাম।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৯১)

তারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য সম্পূর্ণ অপরাধ স্বীকার করার পরপরই ইউসুফ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাদের প্রতি ক্ষমার সুমহান বার্তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে বলেন, ‘আজকের এই দিনে তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। মহান আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন, কেননা তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৯২)

একজন অপরাধীর মনকে তীব্র অনুশোচনার আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ খাঁটি ও পরিপাটি করে পুনরায় গঠন করার এক অসাধারণ মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা বা পদ্ধতি ছিল মূলত এটি।

তাঁের বর্ণাঢ্য জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলোর একটি হলো তাঁর দীর্ঘদিনের নীরবতা ও অটল আত্মসংযম। শৈশবের শুরুতে গভীর চক্রান্তের শিকার হয়ে অন্ধকার কূপে নিক্ষিপ্ত হওয়া, পরবর্তীতে একজন সাধারণ দাস হিসেবে বিদেশি বাজারে বিক্রি হয়ে মিসরের প্রভাবশালী মন্ত্রীর গৃহে বন্দী জীবন কাটানো এবং ভরা যৌবনের প্রারম্ভেই অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ হওয়া, তাঁর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ একা ও বিচ্ছিন্ন।

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, মিসরের পূর্ণ ক্ষমতা অর্জনের পরেও তিনি কেনান প্রদেশে অবস্থানরত তাঁর প্রিয় পিতা নবী ইয়াকুবের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংবাদ পাঠাতে পারতেন। তিনি ভালোভাবেই অবগত ছিলেন যে তাঁর শোকে পিতা ইতোমধ্যে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে গেছেন। তবুও আল্লাহর বিশেষ নির্দেশনা ও নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষায় তিনি গভীর আস্থা রেখে চরম ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।

এর কারণ হলো, অসময়ে নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করে ফেললে তাঁর ভাইদের মানসিক সংস্কারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হতে পারত এবং মহান আল্লাহর নির্ধারিত চূড়ান্ত বিচারও তার কাঙ্ক্ষিত পূর্ণতা লাভ করত না।

এটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন এক আত্মসংযমের অগ্নিপরীক্ষা। নিজের অন্তরে গভীর কষ্ট ও বেদনা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনোই কোনো কিছুতে তাড়াহুড়ো করেননি। পবিত্র কোরআনে নবী ইউসুফের এই অটল নীতিই অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি যথাযথ আল্লাহভীতি অর্জন করে এবং সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ কখনো সেইরূপ সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের প্রাপ্য প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।’ (সুرا ইউসুফ, আয়াত: ৯০)

কারাগার মূলত মানবজাতির মানসিক ও শারীরিক চরম নির্যাতনের একটি প্রধান কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। অথচ ইউসুফ সেই জেলের ভীতিপ্রদ অন্ধকার প্রকোষ্ঠকেও একটি সফল সমাজ সংস্কারের অত্যন্ত উর্বর ক্ষেত্রে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

যখন কারাগারে বন্দি থাকা দুই তরুণ যুবক তাঁর কাছে তাদের দেখা বিভিন্ন স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা জানতে এল, তখন তিনি কেবল নামমাত্র স্বপ্নের বাহ্যিক উত্তর দিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করেননি। তিনি তাদের তখনকার মানসিক অবস্থা এবং বিভিন্ন দুর্বলতা খুব সহজে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। এ কারণে তিনি সবার আগে নিজের নৈতিক শক্তিমত্তা এবং এক আল্লাহর একত্ববাদের পবিত্র দাওয়াত তাদের সামনে তুলে ধরলেন। তিনি বললেন, ‘হে আমার কারাসঙ্গীদ্বয়, পৃথক পৃথক অনেকগুলো পালনকর্তা ভালো, নাকি পরাক্রমশালী এক মহান আল্লাহ?’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৩৯)

এমনকি দীর্ঘ কারাবাসের সময়গুলোতেও তাঁর অসাধারণ নৈতিকতা ও অনুপম চরিত্রের কারণে কারাগারের সাধারণ কয়েদিরা তাঁকে পরম শ্রদ্ধায় ‘আল-মুহসিন’ বা অত্যন্ত সৎকর্মশীল ব্যক্তি উপাধিতে ভূষিত করেছিল। পবিত্র কোরআনে এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘তারা বলল, আমরা আপনাকে একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পাচ্ছি।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৩৬)

এমন এক প্রতিকূল ও চরম বিষাদময় পরিবেশের মধ্যেও নিজের উন্নত চরিত্র ও দাওয়াতি মিশন দৃঢ়ভাবে ধরে রেখে কীভাবে সাধারণ বন্দিদেরও সঠিক ও সরল পথে পরিচালিত করা সম্ভব, নবী ইউসুফের বর্ণাঢ্য জেলজীবন তার এক অতুলনীয় ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ইউসুফ যখন মিসরের মূল ক্ষমতার কেন্দ্রে সুপ্রতিষ্ঠিত হলেন, ঠিক সেই সময়ে মিসরসহ তার চারপাশের সম্পূর্ণ অঞ্চল এক ভয়াবহ দীর্ঘ সাত বছরের মহাদুর্বিপাক ও মারাত্মক দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছিল। তৎকালীন সেই প্রাচীন যুগে বর্তমানের মতো কোনো আধুনিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা কিংবা কোনো মহামারি বা দুর্ভিক্ষ সহজে সামাল দেওয়ার মতো কোনো উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ছিল না। ফলশ্রুতিতে তিনি অত্যন্ত দূরদর্শী ও বিজ্ঞানসম্মত এক অর্থনীতির গোড়াপত্তন করলেন।

রাজার দেখা বিশেষ স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদানের পাশাপাশি তিনি আসন্ন দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা মোকাবিলায় সুদীর্ঘ চৌদ্দ বছরের একটি মহাপরিকল্পনা পেশ করেছিলেন, যা পবিত্র কোরআনে এভাবে বর্ণিত হয়েছে, ‘ইউসুফ বললেন, তোমরা টানা সাত বছর নিয়মিত চাষাবাদ করবে, অতঃপর যে ফসল তোমরা কাটবে, তার মধ্য থেকে সামান্য কিছু খাদ্য ছাড়া বাকি সমস্ত ফসল শিষসহ জমিয়ে রেখে দেবে।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৪৭)

এই বিশেষ ‘শিষসহ খাদ্য সংরক্ষণের’ আধুনিক বৈজ্ঞানিক নীতিটি মূলত খাদ্যদ্রব্যকে দীর্ঘকাল পর্যন্ত যেকোনো ধরনের পচনশীলতা থেকে খুব নিরাপদে রক্ষা করেছিল। মিসরের মতো একটি বহু ঐশ্বরিক বিশ্বাসে অন্ধভাবে বিশ্বাসী জাতিকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ থেকে সফলভাবে রক্ষা করে তিনি কেবল সুচারুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক খাদ্য কূটনীতির ক্ষেত্রেও এক অনন্য নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন। এত বিশাল ক্ষমতার সর্বোচ্চ শীর্ষে অবস্থান করার পরও তিনি কখনোই সামান্যতম অহংকারে লিপ্ত হননি।

যখন তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন করলেন, তখন নিজের ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থের কথা না ভেবে অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন ও জনসেবা করার যোগ্যতাকে সবার ওপরে স্থান দিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনে এই বিষয়ে এসেছে, ‘তিনি (ইউসুফ) বললেন, আমাকে আপনি দেশের সমস্ত ধনভান্ডারের দায়িত্বে নিযুক্ত করুন; নিশ্চয়ই আমি একজন বিশ্বস্ত হেফাজতকারী ও সুনিপুণ সুবিজ্ঞ।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৫)

এখানে ‘হেফাজতকারী’ শব্দটির মাধ্যমে তাঁর অতুলনীয় সততা এবং ‘সুবিজ্ঞ’ শব্দের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রশাসনিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার বাস্তব পরিচয় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

নবী ইউসুফের সমগ্র জীবনকথা মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈতিক ও প্রশাসনিক মাইলফলক হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে আছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে রাজনৈতিক শত্রুকে ক্ষমা করা, যেকোনো বৈরী পরিবেশে নিজের মৌলিক নীতি ও ইমানকে সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন রাখা, অপরাধীকে তাৎক্ষণিক শাস্তির পরিবর্তে গভীর অনুশোচনার পর্যাপ্ত সুযোগ করে দেওয়া এবং ভয়াবহ সংকটের মুখে অত্যন্ত দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে একটি সমগ্র জাতিকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা—তাঁের জীবনের এই উজ্জ্বল দিকগুলো আধুনিক যুগের সমাজ ও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জন্য অনন্তকাল ধরে পথ দেখানোর এক কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

বর্তমান যুগের পারস্পরিক তীব্র প্রতিশোধপরায়ণতা ও গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতায় পূর্ণ এই পৃথিবীতে নবী ইউসুফের এই দূরদর্শী সামাজিক সংস্কারের মডেলটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আজও অপরিসীম।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রহরীর বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেল ঈশ্বরগঞ্জের ব্যাংক

প্রহরীর বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেল ঈশ্বরগঞ্জের ব্যাংক