নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
ইসরায়েলের সাবেক কূটনৈতিক কর্মকর্তা অ্যালন পিঙ্কাস সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মত প্রকাশ করেন যে, গাদি আইজেনকোটের মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে প্রশাসনিক ক্ষমতা গ্রহণ বেশ দুরূহ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইতিপূর্বে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপের ফলাফলগুলোতে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক পক্ষটিকে খুব সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রচারণার সময় এই দলগুলো স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা কোনো অবস্থাতেই আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে কোনো যৌথ প্রশাসন গঠন করবে না।
পিঙ্কাস তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন যে, এই অনমনীয়তার কারণে তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। তাঁর সুনির্দিষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সম্পূর্ণ ব্রাত্য রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়; আবার যখন নিজেদের স্বার্থে ভোটের প্রয়োজন দেখা দেবে, কেবল তখনই তাদের কথা স্মরণ করা এবং নিজেদের জোটে ভিড়িয়ে নেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, আরব জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলো প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে এমন কিছু শর্ত বা দাবি উপস্থাপন করবে, যা ইহুদি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটগুলোর পক্ষে সহজে মেনে নেওয়া বাস্তবসম্মত না-ও হতে পারে।
ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিন মঙ্গলবার শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর অতি ডানপন্থী রাজনৈতিক সহযোগীরা তাদের অনুসারীদের ভোটকেন্দ্রে টেনে আনতে মরিয়া হয়ে তীব্র চেষ্টা চালায়। এই প্রক্রিয়ায় তারা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভেতরে ভোট দেওয়ার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি তীব্রভাবে প্রচার করতে থাকে। আরব রাজনীতিবিদরা নেতানিয়াহুর এই অপকৌশলকে পুরোপুরি বর্ণবাদী ও বিদ্বেষপ্রসূত উসকানি হিসেবে চিহ্নিত করে এর কঠোর নিন্দা জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির দলীয় পতাকায় সজ্জিত বেশ কিছু যানবাহন জেরুজালেমের অলিগলিতে চক্কর কাটছিল। ওই গাড়িগুলোতে অত্যন্ত উচ্চ স্বরে আজানের ধ্বনি বাজানো হচ্ছিল এবং একই সঙ্গে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জোরালো তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল এই যুক্তিতে যে, ‘আরবরা দলে দলে ভোট দিতে যাচ্ছে।’
ডিজিটাল মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন পোস্টে নেতানিয়াহু বিশেষভাবে আরবপ্রধান অঞ্চলগুলোর ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য তুলে ধরেন। তিনি একটি স্থিরচিত্রও জনসমক্ষে আনেন, যেখানে তাঁর নিজস্ব ভাষ্য অনুযায়ী, আরব ভোটারদের ভোটদানের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে মুখাবরণ বা নিকাব পরিহিতা নারীদের উপস্থিতি রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য, নিকাব হলো এমন এক বিশেষ ধরনের আবরণ যা নারীদের মুখের নিম্নভাগ আবৃত করে রাখে।
নেতানিয়াহু আতঙ্ক ছড়িয়ে ভোটারদের সতর্ক করে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে তাদের মানসুর আব্বাস ও আহমাদ তিবির মতো ব্যক্তিদের পরিচালিত প্রশাসনের অধীনে দিন কাটাতে হতে পারে। ইসরায়েলি সংসদ নেসেটের এই দুই পরিচিত ও প্রভাবশালী ফিলিস্তিনি সদস্যের নাম বিশেষভাবে উচ্চারণ করে তিনি এই ভীতি প্রদর্শন করেন।
দেশের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পর্ষদের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুসারে, মঙ্গলবারের এই জাতীয় নির্বাচনে সার্বিক ভোট প্রদানের হার রেকর্ড গড়ে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে গিয়ে ঠেকে। আজ থেকে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে অর্থাৎ ১৯৯৯ সালের পর থেকে এটিই ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভোটার উপস্থিতির ঘটনা। প্রায় এক কোটি মোট জনসংখ্যার এই রাষ্ট্রে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকেরা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক পঞ্চমাংশ অর্থাৎ ২১ শতাংশের মতো। ঐতিহ্যগতভাবে ইহুদি নাগরিকদের তুলনায় এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রবণতা বরাবরই কম ছিল। তবে চলমান নির্বাচনে তাদের অভূতপূর্ব ও ব্যাপক অংশগ্রহণের কল্যাণে আরবদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলো সংসদীয় আসন অর্জনে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বলে প্রাক-নির্বাচনী ও বুথফেরত জরিপগুলোতে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
Daily Diner Alo