ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পুরানা পল্টনে সিপিবির মিছিলে হামলার অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
পুরানা পল্টনে সিপিবির মিছিলে হামলার অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) একটি বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মী পরিচয়ে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।

সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গানে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদের কর্মসূচি হিসেবে ঢাকার ধানমন্ডিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল। তাঁর মুক্তির পর আনন্দের অংশ হিসেবে সিপিবির নেতাকর্মীরা এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন।

সোমবার রাত দশটার দিকে পুরানা পল্টন এলাকায় এই হামলা শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে হামলাকারীরা সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।

হামলা চলাকালে সিপিবির দুই নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আক্রান্তদের উদ্ধার করে।

রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুরানা পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পাহারা দিচ্ছে পুলিশ বাহিনী। তাদের পাশেই অপেক্ষমাণ ছিলেন সিপিবির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।

সিপিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীপক শীল মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে একটি মিছিল বের করে দলীয় কার্যালয় থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত যান নেতাকর্মীরা। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ চলছিল।

ওই সমাবেশে ‘জয় বাংলা, জয় সমাজতন্ত্র’ স্লোগান উচ্চারিত হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজেদের যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মী দাবি করা চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জনের একটি দল সেখানে এসে ওই স্লোগানে আপত্তি তোলে।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুবদল ও ছাত্রদলের লোকজন ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিলে তারা সিপিবির দুই কর্মীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। মারধরের শিকার হয়ে সিপিবির লোকজন পল্টন মোড় থেকে সরে এসে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

সেখানেও কিছু সময় ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর পর হামলাকারীরা কার্যালয়টির সামনে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে রাত এগারোটার পর সেখান থেকে চলে যান।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সিপিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পরও তাদের ওপর এই হামলা চালানো হলো।

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নিজেদের দলের লোকজনকে সরকারেরই সামলানো উচিত। একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের সামনে এসে কীভাবে এমন হামলার সাহস দেখায় দুর্বৃত্তরা?

জলি তালুকদার আরও অভিযোগ করেন যে, হামলার পরপরই সিপিবির সদস্য ইরান মোল্লা ও সোহেল নামক আরেক কর্মীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।

তবে সিপিবির নেতার এই আটকের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম। তিনি জানান, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতার মুক্তির পর পনেরো থেকে কুড়ি জনের একটি দল পল্টনে মিছিল বের করে।

স্থানীয় কিছু মানুষ সেই মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক বাধে। ওসি আরও দাবি করেন যে, সিপিবির অফিসে কোনো ভাঙচুর চালানো হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে আইআরজিসি

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে আইআরজিসি