ঢাকা | বঙ্গাব্দ

টাকা নেই, বইও জোটেনি—রাজশাহীতে অনিশ্চয়তার মুখে রুকসানার জীবন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
টাকা নেই, বইও জোটেনি—রাজশাহীতে অনিশ্চয়তার মুখে রুকসানার জীবন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

এসএসসি পরীক্ষায় দারুণ সাফল্যের পর রাজশাহীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার আনন্দ রুকসানার জীবনে খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। অভাবের তাড়নায় তার চোখে জেগে ওঠা সেই স্বপ্নের আলো দিন দিন নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এখন পর্যন্ত তার কোনো নতুন বই কেনা সম্ভব হয়নি এবং বিভাগীয় শহরে থাকার জন্য কোনো মেস কিংবা আবাসের ব্যবস্থাও করা যায়নি। পাশাপাশি, দূরবর্তী গ্রাম থেকে প্রতিদিন রাজশাহী শহরে যাতায়াত করাও তার পক্ষে সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চরম হতাশার মধ্যেই বিগত আড়াই বছর ধরে কিডনিজনিত জটিল রোগে ভোগা তার মায়ের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসকেরা অসুস্থ মাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের কড়া নির্দেশ দিলেও অর্থাভাবে সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা যায়নি।

মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. রুকসানা খাতুন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামের অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার মায়ের নাম রাফিয়া বিবি এবং বাবা মো. নূর মোহাম্মদ একজন দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। রুকসানা তাদের এলাকার ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ অর্জন করার গৌরব অর্জন করে। এই ঈর্ষণীয় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সে পরবর্তীতে রাজশাহী সিটি কলেজোদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ লাভ করে।

অত্যন্ত অসচ্ছল পরিবারের এই তরুণীর সুপ্ত স্বপ্ন হলো ভবিষ্যতে নিজের পায়ে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে নিজের পরিবারের হাল ধরা। নানা প্রতিকূলতা ও কায়ক্লেশে মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হলেও কলেজে ভর্তির প্রয়োজনীয় ফি জোগাড় করতে না পেরে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে তার পরিবার। এমন সংকটাপন্ন মুহূর্তে পুঠিয়া উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবুদাস দেবদূত হয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। ওই সরকারি কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তি হতে সমর্থ হয় রুকসানা। তবে বর্তমানে সেই দয়াবান কর্মকর্তা অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন।

কলেজে ভর্তি হওয়াটাই এই দরিদ্র ছাত্রীর শিক্ষা জীবনের শেষ বা একমাত্র ধাপ নয়। রাজশাহী শহরে থেকে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে থাকা ও খাওয়ার খরচ ছাড়াও বইপত্র এবং প্রতিদিনের যাতায়াতের ব্যয়ের পাহাড় টপকাতে হবে। কিন্তু সেই বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান কোত্থেকে আসবে, সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই রুকসানার।

এদিকে দিন দিন রুকসানার মা রাফিয়া বিবির শারীরিক পরিস্থিতি আরও শোচনীয় রূপ ধারণ করছে। গত ১৮ অক্টোবর তাঁকে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় তাঁকে সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। এমনকি চিকিৎসকের লেখা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার মতো ন্যূনতম টাকাও তাদের হাতে নেই। ফলে বাধ্য হয়েই তার পিতা নূর মোহাম্মদ তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে একদিকে মায়ের জীবন রক্ষার্থে চিকিৎসাসেবা এবং অন্যদিকে রুকসানার অনিশ্চিত পড়ালেখা—উভয় সংকটই থমকে রয়েছে কেবল তীব্র অর্থাভাবের কারণে।

নিজের অদম্য ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে রুকসানা জানায়, তার তিন বোনেরই ইতিপূর্বে বিয়ে হয়ে গেছে এবং তাদের পারিবারিক অবস্থাও যথেষ্ট অসচ্ছল হওয়ায় কেউ কোনো ধরনের সাহায্য করতে পারছেন না। তবুও সে যেকোনো মূল্যে তার কাঙ্ক্ষিত পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

অন্যদিকে ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান জানান যে রুকসানার পরিবার অত্যন্ত অস্বচ্ছল এবং তাদের বসবাসের জন্য একটি ভালো ঘর পর্যন্ত নেই। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তার কাছ থেকে কখনোই কোনো ধরনের বেতন নেওয়া হতো না এবং এসএসসির ফরম পূরণের সময়ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে সাধ্যমতো সাহায্য করা হয়েছিল। সমাজের কোনো বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তি যদি এই অদম্য মেয়েটির পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে সে তার লক্ষ্য অর্জনে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে বলে প্রধান শিক্ষক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মানিক পশারীর দাফনে বাধা: সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুললেন তাসনি

মানিক পশারীর দাফনে বাধা: সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুললেন তাসনি