নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে লিওনেল মেসির অত্যন্ত ঘনিষ্ট সতীর্থ হিসেবে কাটানো দিনগুলোর কথা স্মরণ করেছেন মার্টিন দেমিচেলিস। এমনকি যখন লিও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন সেটির আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় তিনিও একজন ছিলেন। তিনি কখনোই মেসিকে নাগাড়ে বার্তা পাঠিয়ে বিরক্ত করতে চাননি, কারণ তার মনে হতো বিশ্বসেরা এই তারকা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ বার্তার মুখোমুখি হন।
তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচের পর সাবেক এই ডিফেন্ডার আর চুপ থাকতে পারেননি। ওই ম্যাচে যেভাবে লিও দল ও অধিনায়ক হিসেবে নিজের ভেতরকার তাড়নাকে কাজে লাগিয়ে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন, তাতে তাকে অভিনন্দন জানানোর তাগিদ অনুভব করেছিলেন দেমিচেলিস।
মেসির অদম্য দৃঢ়তা, চোখের দৃষ্টি, প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং এই বয়সেও তার এমন পারফরম্যান্স দেমিচেলিসকে ভীষণভাবে বিস্মিত করেছিল। তার কাছে পুরো বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল এবং তিনি তখন ভেবেছিলেন কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে শেষবারের মতো বলেন যে, খেলাটি শুধু উপভোগ করো এবং এরপর কী হতে চলেছে তা নিয়ে যেন তিনি কোনো দুশ্চিন্তা না করেন।
জার্মানিতে কোচিং পেশার দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার কারণে মেসির সেই বিদায়ী ম্যাচে সশরীরে বুয়েনস এইরেসে উপস্থিত থাকতে পারেননি দেমিচেলিস। তবে তিনি দূরে থেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে মেসিকে ঘিরে প্রকাশিত নানান ভিডিও ক্লিপ ও তাদের পুরোনো সোনালী মুহূর্তগুলো ঠিকই উপভোগ করেছেন।
যখন প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিলেন এবং বিদায়ের সেই ক্ষণটি চলে এল, তখন অন্য আটদশজন সাধারণ আর্জেন্টুনি নাগরিকের মতো দেমিচেলিসও গভীরভাবে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছিলেন। ইন্টারনেটে তখন তিনি একের পর এক পুরোনো ভিডিও ও ফেলে আসা মুহূর্তগুলো দেখতে শুরু করেন।
পেশাগত ব্যস্ততার কারণে মহান এই ফুটবলারের বিদায়লগ্নে পাশে থাকতে না পারার আফসোসও তিনি গোপন করেননি। তবে একই সঙ্গে তিনি এ জন্য একধরণের কৃতজ্ঞতাবোধও প্রকাশ করেন, কারণ এর সহজ অর্থ দাঁড়ায় যে তিনি বর্তমানে একটি বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তা সত্ত্বেও একজন গর্বিত আর্জেন্টাইন হিসেবে এবং মেসির একজন সাবেক সতীর্থ হিসেবে স্মৃতির আবেগ তাকে গভীরভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।
Daily Diner Alo