ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অনলাইন থেকে আয় করতে গিয়ে ই-টিনের ফাঁদে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
অনলাইন থেকে আয় করতে গিয়ে ই-টিনের ফাঁদে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

দুছর আগের একটি সময়ের কথা স্মরণ করলে দেখা যায় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটিতে সামাজিক মাধ্যম থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জনের নানা প্রণোদনামূলক কন্টেন্টের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। ভিডিওগুলোর প্রচ্ছদ এমনভাবে সাজানো হতো যেন কম্পিউটার চালু করা মাত্রই সেখান থেকে মুদ্রার বান্ডিল সরাসরি নিজের পকেটে এসে জমা হবে।

সেসব প্ররোচনামূলক ভিডিওর প্রভাবে আমার মনের গভীরেও একজন অতি ধনী ব্যক্তি হয়ে ওঠার সুপ্ত স্পৃহা জন্ম নিয়েছিল। আমার মনে প্রশ্ন জেগেছিল যে সামাজিক মাধ্যম নির্মাতা যখন প্রচুর সম্পদ বিতরণ করছেন তখন আমার অভাবী থাকার কোনো কারণ নেই। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অভিযান শুরু করেছিলাম।

সেই ভিডিওর মাধ্যমেই জানতে পেরেছিলাম যে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা হাতে পেতে হলে একটি বিশেষ কর শনাক্তকরণ সনদ প্রয়োজন হয়। এই সনদটি আসলে কী এবং এর কাজ কী সে বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র কৌতূহল বা পরিষ্কার ধারণা ছিল না। সেই মুহূর্তে আমার সামনে একটাই মাত্র উদ্দেশ্য নির্ধারিত ছিল আর তা হলো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন।

আমার কাছে মনে হচ্ছিল এই সনদটি রূপকথার সেই জাদুকরী প্রদীপের মতো অলৌকিক কিছু। যেকোনো উপায়ে সেটি তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে সংযুক্ত করে দিলেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খুশি হয়ে সরাসরি আমার ব্যাংক হিসাবে মুদ্রার বস্তা পাঠিয়ে দেবেন।

প্রচুর উৎসাহ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রবেশ করে কোনোমতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে একটি কর শনাক্তকরণ সনদ তৈরি করে ফেলেছিলাম। যখন ওই ডিজিটাল নথিটি সংগ্রহ করছিলাম তখন আমার মনের মধ্যে এমন এক অনুভূতি কাজ করছিল যেন আমি সবেমাত্র কোনো সুরক্ষিত বিদেশি ব্যাংকের গোপনীয় সিন্দুক খুলে ফেলেছি।

এর মাঝে দেখতে দেখতে চব্বিশটি মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যম থেকে একটি একক মুদ্রাও তো দূরের কথা তার ভগ্নাংশও আমার হিসাবে জমা হয়নি। যে পাতাটি তৈরি করেছিলাম তার জনপ্রিয়তা বা বিস্তার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মনে হচ্ছিল সেটি জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রে যুক্ত রয়েছে। ধনী হওয়ার সেই রঙিন কল্পনা অনেক আগেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

নিজের দৈনন্দিন খরচের জন্য বর্তমান সময়েও আমাকে পিতৃদত্ত সহায়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়। অভিভাবকের আশ্রয়ে থেকে এবং তাদের প্রদাত্ত অর্থে ইন্টারনেট সংযোগ কিনে আমার দিনগুলো মোটামুটি কেটে যাচ্ছিল। সেই সনদের কথা আমার স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ মুছে গিয়েছিল।

তবে মূল জটিলতা দেখা দিল কিছুদিন আগে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করার সময় হঠাৎ একটি লেখার ওপর আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো। সেখানে উল্লেখ করা ছিল যেসব নাগরিক কর শনাক্তকরণ সনদ নেওয়ার পরও আয়কর বিবরণী জমা দেননি তাদের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আর্থিক জরিমানা করেছে।

সেই তথ্যটি দেখার পর আমার অবস্থা এমন হলো যে সত্যিই হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তীব্র ভয় ও কৌতূহল নিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে অনুসন্ধান করে দেখতে পেলাম আমার নামে একেবারে নগদ দশ হাজার টাকার একটি অর্থদণ্ড ঝুলছে। চোখ ঘষে লেখাটি পুনরায় পড়লাম এবং আমার মাথা ঘুরে উঠল। কী বিপদের মাঝেই না পড়ে গেলাম!

কর প্রদান তো দূরের কথা আমার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এমন পর্যায়ে রয়েছে যে উল্টো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাকে আর্থিক সহায়তা বা বেকার ভাতা প্রদান করা উচিত ছিল। বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়ার আশায় সনদ বানিয়েছিলাম অথচ এখন দেখছি কাঙ্ক্ষিত সেই মুদ্রা তো আসেইনি উল্টো দেশীয় মুদ্রায় আমাকেই রাষ্ট্রকে দশ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

প্রবাদের সেই প্রবীণ উক্তির মতো অবস্থা হয়েছে যেখানে মূল খরচের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন যদি অভিভাবককে গিয়ে বলি যে সামাজিক মাধ্যম থেকে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতে গিয়ে রাজস্ব বিভাগের কাছে জরিমানা খেয়ছি তবে তিনি যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন তাতে আমার আর ধনী হওয়া লাগবে না।

না বুঝে কোনো বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করলে যে কেবল শারীরিক ক্ষতি হয় না বরং অর্থমঞ্চও যে শূন্য হয়ে যায় তা এখন মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছি।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ