ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শেকৃবি মাঠে সচিবালয় সরাসরির উদ্যোগের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের নিয়ে স্টিয়ারিং কমিটির প্রতিবাদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
শেকৃবি মাঠে সচিবালয় সরাসরির উদ্যোগের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের নিয়ে স্টিয়ারিং কমিটির প্রতিবাদ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। তাদের জোরালো দাবি হলো, বর্তমান স্থান থেকে সচিবালয় সরিয়ে এই নির্দিষ্ট মাঠটি পুনরায় তাদের নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ফেরত দিতে হবে এবং সেখানে অন্য কোনো ধরনের নতুন স্থাপনা তৈরি কিংবা কোনো ধরনের সরকারি কার্যক্রম চালানো যাবে না।

মঙ্গলবার ওই মাঠে সচিবালয় নির্মাণের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে মাটির গুণাগুণ বা সয়েল টেস্টের কাজ পরিচালিত হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং মাটির পরীক্ষাকাজের সমস্ত যন্ত্রাংশসহ সেখানে থাকা দুটি গাড়ি জোরপূর্বক নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর নিয়ে যান।

শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিল থেকে বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারিত হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখে সে সময় ‘শেকৃবিয়ানের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘সচিবালয় না শেকৃবি, শেকৃবি শেকৃবি’ এবং ‘টেক ব্যাক টেক ব্যাক’ ইত্যাদি স্লোগান শোনা যায়।

এই পুরো আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী আশিক আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, এই জায়গাটি ঐতিহাসিকভাবেই পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে নির্ধারিত ছিল। সরকার বর্তমানে সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, তা তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। গবেষণা কাজের জন্য মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই তাদের একমাত্র মূল দাবি।

মাঠ থেকে মাটি পরীক্ষার মূল্যবান যন্ত্র ও যানবাহন ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশিক আরও পরিষ্কার করেন যে, যারা বর্তমানে মাঠে কাজ পরিচালনা করছেন, তারা যদি নিজেদের যন্ত্র ও গাড়ি ফেরত নিতে চান, তবে তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যথাযথ আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে এবং তারা সেটাই প্রত্যাশা করেন।

যন্ত্রপাতি তুলে আনার এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ওই দিন তাদের সব ধরনের নির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার এবং নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরাই নন, এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও সংহতি প্রকাশ করে যোগ দিয়েছেন। নিজেদের ক্যাম্পাস ও মাঠের সম্পত্তি রক্ষার্থে তাঁরা একটি বিশেষ স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেছেন, যার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী।

স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক সালাহউদ্দিন মাহমুদ জানান যে, তাঁদের এই কমিটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর মতো নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের চলমান কর্মসূচি সম্পর্কে অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ নিজেদের সিদ্ধান্তে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত একটি সিন্ডিকেট সভা ডাকার জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে তারা আইনগত লড়াইয়ের জন্য আদালতেও যাওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছেন।

অধ্যাপক সালাহউদ্দিন জানান, তাঁরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে শিক্ষার্থীরা তাতে কর্ণপাত না করে নিজস্ব পন্থায় আন্দোলন চালিয়ে যান।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ এবং মাঠ থেকে যন্ত্রাংশ ও গাড়ি তুলে আনার ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান যে, এই আন্দোলনটি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগ, এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে মাটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রপাতি এবং দুটি গাড়ি যে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবহিত রয়েছে। সংগৃহীত এসব সরঞ্জাম যেন কোনো অবস্থাতেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখছে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতে আন্দোলন যেন মোড় না নেয়, সে জন্যও তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার শিক্ষার্থীরা কালো পতাকা হাতে নিয়ে তাদের প্রতিবাদী কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আড়ালমুক্ত হচ্ছে কিনব্রিজ, সরছে ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজ

আড়ালমুক্ত হচ্ছে কিনব্রিজ, সরছে ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজ