নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
ঢাকার উপকণ্ঠে টঙ্গীতে গ্যাসলাইনের ছিদ্র থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের তিনজন সদস্যই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শুক্রবার সকালে পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ষোলো বছর বয়সী কিশোরীরও মৃত্যু হয়েছে, যার মাধ্যমে পুরো পরিবারটি ধ্বংস হয়ে গেল।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজকের দিনে সকাল আটটার দিকে ওই কিশোরী প্রাণ হারায়। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ কিশোরীর মৃত্যুর সংবাদটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় টঙ্গী পশ্চিম থানাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত বুধবার ভোরবেলা প্রায় সাতটার দিকে টঙ্গীর মুদাফা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে গ্যাস সংযোগের লিকেজ থেকে আকস্মিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে পুড়ে যান ষাট বছর বয়সী মো. লাল চান, তাঁর সহধর্মিণী পঞ্চাশ বছর বয়সী নাসিমা বেগম এবং তাঁদের মেয়ে ১৬ বছর বয়সী তানিশা আক্তার।
ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের পর আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত আটটার দিকে বাবা লাল চান ও মা নাসিমা বেগম একে একে মারা যান।
বাবা-মায়ের মৃত্যুর একদিন পর শুক্রবার সকালে তাঁদের তরুণী মেয়ে তানিশাও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে চলে যায়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন আকস্মিক প্রয়াণে পুরো এলাকায় তীব্র শোক ও স্তব্ধতা নেমে এসেছে।
বিশেষায়িত ওই চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় লালচানের দেহের পঁচানব্বই শতাংশ, তানিশার ছিয়াশি শতাংশ এবং নাসিমার শরীরের পঁচাশি শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল।
Daily Diner Alo