ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অসুস্থ অবস্থায় নামাজ আদায়ের সহজ নিয়মগুলো জেনে নিন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
অসুস্থ অবস্থায় নামাজ আদায়ের সহজ নিয়মগুলো জেনে নিন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

মানবজীবনের অনিবার্য একটি সত্য হলো রোগব্যাধি। শারীরিক অসুস্থতার সময় মানুষের শরীর মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে যায় এবং দৈনন্দিন চলাফেরা বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় মানুষের মনে ভ্রান্ত ধারণার জন্ম নেয় যে, শরীর অসুস্থ থাকায় সুস্থ হওয়ার পর বিগত দিনগুলোর সব নামাজ কাজা হিসেবে আদায় করে নেওয়া যাবে।

তবে ইসলাম ধর্মে অসুস্থতার অজুহাতে ফরজ ইবাদত বর্জন করার কোনো অবকাশ রাখা হয়নি। এই প্রশ্নের অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট উত্তর হলো, কোনোভাবেই নামাজ ছেড়ে দেওয়া জায়েজ নয়। মানুষের মস্তিষ্কে জ্ঞান ও চেতনা বহাল থাকা অবস্থায় জীবনের কোনো মুহূর্তেই নামাজ মাফ হওয়ার বিধান ইসলামে নেই।

যদিও ইসলাম একটি অত্যন্ত সহজ ও বাস্তবসম্মত মানবিক জীবনব্যবস্থা, তাই অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নামাজ আদায়ের নিয়মে বেশ কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। পবিত্র ইমান অর্জনের পর একজন মুমিনের জীবনে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফরজ ইবাদত হলো দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।

শারীরিক অবস্থা সুস্থ থাকুক কিংবা অসুস্থ, চেতনা সক্রিয় থাকা পর্যন্ত বান্দাকে অবশ্যই নামাজ সম্পন্ন করতে হবে। মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআন মজিদে অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, তিনি তার কোনো বান্দার ওপর তার ক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।

পবিত্র আল-কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন যে, আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো বিষয়ের বোঝা বহন করান না। এই পবিত্র আয়াতের মূল শিক্ষা হলো, একজন মানুষকে তার শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ীই কেবল মহান আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি চালিয়ে যেতে হবে।

তাই শুধুমাত্র সাধারণ জ্বর কিংবা সামান্য দুর্বলতার মতো ছোটখাটো কারণে নামাজ কাজা করে ফেলা ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য শরিয়ত নামাজ আদায়ের পদ্ধতিগুলোকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে যাতে ইবাদতে ছেদ না পড়ে।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু অতীতে অর্শ্বরোগে আক্রান্ত হয়ে কঠিন কষ্ট ভোগ করেছিলেন। তিনি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অসুস্থ অবস্থায় নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

উত্তরে মহানবী তাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন যে, তুমি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, যদি সেই সামর্থ্য না থাকে তবে বসে পড়ো, আর যদি তাও অসম্ভব হয় তবে শায়িত অবস্থায় নামাজ সম্পন্ন করো। সহিহ বুখারি শরিফে এই মহামূল্যবান হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।

কোনো রোগী যদি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলে তার রোগ আরও মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে কিংবা সুস্থ হতে অস্বাভাবিক দেরি হতে পারে, তবে তার বৈধতা রয়েছে। এছাড়া মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার প্রবল ভয় থাকলে চিকিৎসাধীন রোগীর জন্য বসে রুকু ও সেজদা সম্পন্ন করে নামাজ পড়া সম্পূর্ণ বৈধ।

অসুস্থতার কারণে পানি ব্যবহার করলে যদি শারীরিক অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ার বা জীবন সংশয়ের ঝুঁকি থাকে, তবে শরিয়ত ওজু বা গোসলের পরিবর্তে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নেওয়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেছে। পবিত্র কোরআনেও এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে যে, যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাকো এবং পানি লাভে ব্যর্থ হও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো। তা দিয়ে মুখমণ্ডল ও দুই হাত মাসেহ করে নাও, যা সুরা নিসার একচল্লিশ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোগীকে কেবল পানি ছোঁয়ার ভয়ে নামাজ ত্যাগ করার বিন্দুুমাত্র সুযোগ দেওয়া হয়নি, বরং পবিত্রতা অর্জনের চমৎকার বিকল্প পথ বাতলে দেওয়া হয়েছে। রোগীর অবস্থা যদি এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে তিনি বসতেও সম্পূর্ণ অক্ষম, তবে তিনি চিত হয়ে শুয়ে বা একপাশে কাত হয়ে নামাজ পড়বেন।

এই বিশেষ অবস্থায় রোগীকে মাথা নেড়ে ইশারার মাধ্যমে রুকু ও সেজদার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তবে সেজদার জন্য মাথার ইশারা রুকুর ইশারার তুলনায় একটু বেশি পরিমাণে নিচু করতে হবে।

যদি রোগীর মধ্যে মাথা নেড়ে সামান্য ইশারা করার মতো ন্যূনতম শক্তিটুকুও অবশিষ্টাংশ না থাকে, তবে তার আর ইশারা করার কোনো প্রয়োজন নেই। ইসলামি ফিকহের সার্বজনীন বিধান অনুযায়ী, চেতনা বিলুপ্ত হলে কিংবা মাথার ইশারা করার শক্তি ফুরিয়ে গেলে কেবল তখনই নামাজ স্থগিত থাকবে।

পরবর্তীতে যখন ওই ব্যক্তি পূর্ণ সুস্থতা লাভ করবেন, তখন তাকে বিগত দিনের স্থগিত সেই নামাজগুলো অবশ্যই কাজা করে নিতে হবে। মুমিন মুসলমানের জীবনে রোগব্যাধি কোনো ধরনের শাস্তি নয়, বরং এটি হলো কবিরা গুনাহ বা পাপ মোচনের মোক্ষম একটি মাধ্যম।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবী সা. বলেছেন যে, যেকোনো মুসলিম যখন কোনো শারীরিক কষ্ট, রোগ বা অন্য কোনো সংকটে পতিত হয়, তখন আল্লাহ এর মাধ্যমে তার সমস্ত পাপ ঝরিয়ে দেন। গাছ থেকে যেমন ঝরে পড়ে পাকা পাতা, তেমনি এই ইবাদতের মাধ্যমে গুনাহগুলো মুছে যায়।

তাই অসুস্থতার মতো কঠিন সময়েও কষ্ট সহ্য করে মহান আল্লাহর বিধান যথাযথভাবে পালন করলে বান্দার আধ্যাত্মিক মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। সামান্য জ্বর, মাথাব্যথা বা সাধারণ দুর্বলতার অজুহাতে নামাজ কাজা করা বা ত্যাগ করা কোনোভাবেই উচিত নয়।

মস্তিষ্কে জ্ঞান বহাল থাকা অবস্থায় নামাজ মাফ হওয়ার মতো কোনো বিধান ইসলামি শরিয়তে পাওয়া যায় না। সুতরাং, যেকোনো অসুস্থতায় ইসলাম কর্তৃক প্রদত্ত সহজ ও সুন্দর বিকল্প পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে যথাসময়ে নামাজ আদায় করাই প্রকৃত মুমিনের মূল বৈশিষ্ট্য।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রোববারের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

রোববারের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার