নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
আবুধাবির মাঠে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গতকাল বড় ব্যবধানে ১৫৮ রানের পরাজয় বরণ করে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ে যদি এই ম্যাচটিতে জয় পেত, তবে টাইগারদের ফাইনাল নিশ্চিত করার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যেত। সেক্ষেত্রে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নিজেদের পরবর্তী ও শেষ ম্যাচটিতে কেবল জয় পেলেই সরাসরি ফাইনালের টিকিট পেয়ে যেত বাংলাদেশ দল। তবে জিম্বাবুয়ে তুলনামূলক অল্প রানে হারলেও বেশ কঠিন কোনো হিসাব-নিকাশের মধ্যে পড়তে হতো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুইয়ান দলটি বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হওয়ায় ত্রিদেশীয় এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল রাউন্ডে ওঠার রাস্তা বাংলাদেশের জন্য সামান্য হলেও সুবিধাজনক হয়েছে।
বর্তমান পয়েন্ট তালিকার দিকে গভীরভাবে নজর দিলে পুরো চিত্রটি পরিষ্কার হয়ে উঠবে। প্রতিযোগিতায় একটি মাত্র ম্যাচ খেলে জয় তুলে নিয়ে ৩.১৬০ রান রেট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের একদম শীর্ষস্থান দখল করে আছে আফগানিস্তান। অন্যদিকে, দুটি ম্যাচ খেলে একটি জয় ও একটি হারে ঝুলিতে পয়েন্ট নিয়ে মাইনাস শূন্য দশমিক পাঁচ নয় শূন্য (-০.৫৯০) রান রেট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে অবস্থান করছে জিম্বাবুয়ে। আর মাত্র একটিমাত্র ম্যাচ খেলে পরাজিত হওয়া বাংলাদেশ দল মাইনাস এক দশমিক নয় আট শূন্য (-১.৯৮০) রান রেট নিয়ে রয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে। আসন্ন ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষধে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গ্রুপ পর্বের একদম শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে কেবল বিজয়ী হলেই চলবে না, বরং একই সাথে নিখুঁতভাবে মেলাতে হবে জটিল রান রেটের সমীকরণও। অর্থাৎ একেবারে সহজ কথায় বলতে গেলে, পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে নিজেদের টপকাতে হবে।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ দল যদি প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগ পায়, তবে আফগানিস্তানকে অন্তত একচল্লিশ (৪১) রানের ব্যবধানে হারাতে পারলেই সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত করবে। অর্থাৎ টাইগাররা প্রতিপক্ষকে যেকোনো লক্ষ্যই নির্ধারণ করে দিক না কেন, ম্যাচটি জিততে হবে ন্যূনতম একচল্লিশ রানের ব্যবধানে। তবে এর বিপরীতে বাংলাদেশ যদি পরে রান তাড়া করতে নামে, তবে পুরো হিসাব-নিকাশ সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে। উদাহরণস্বরূপ ধরে নেওয়া যাক, আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশের সামনে তিনশো এক (৩০১) রানের একটি বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল। সেক্ষেত্রে টাইগারদের ম্যাচটি জিততে হবে ঠিক বিয়াল্লিশ ওভার দুই বলের (৪২.২ ওভার) মধ্যে, তবেই তারা ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাতে পারবে।
আফগানিস্তান দল যদি প্রথমে ব্যাট করে আড়াইশো এক (২৫১) রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়, তবে ফাইনাল নিশ্চিত করতে টাইগারদের জয় তুলে নিতে হবে একচল্লিশ ওভার তিন বলের (৪১.৩ ওভার) ভেতরে। আর যদি লক্ষ্যমাত্রা মাত্র একশো এক (১০১) রান হয়, তবে ম্যাচ জিততে হবে সাঁইত্রিশ ওভার দুই বলের (৩৭.২ ওভার) মধ্যে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্য ছুঁতে পারলে রান রেটের লড়াইয়ে জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে ফাইনালে নাম লেখাবে বাংলাদেশ। কিন্তু কোনো কারণে যদি জিম্বাবুয়েকে রান রেটে টপকাতে ব্যর্থ হয় টাইগাররা, তবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়বে তারা এবং জিম্বাবুয়েই চলে যাবে ফাইনালে।
এখন পর্যন্ত কোনো দলেরই ফাইনাল খেলা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে সুবিধাজনক ও নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের একদম শেষ ম্যাচে আফগানরা পরাজিত হলেও তাদের বেশ শক্তিশালী রান রেটের কারণে ফাইনালে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ অক্ষুণ্ণ থাকবে। তবে যদি তারা অত্যন্ত বিশাল ব্যবধানে হেরে বসে, কেবল তবেই এই গোটা হিসাব-নিকাশ উল্টে যেতে পারে।
Daily Diner Alo