নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
জাতীয় গ্রিডের নির্দিষ্ট কিছু অংশে আকস্মিক ত্রুটির কারণে সম্প্রতি মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার বেশ কিছু অংশসহ দেশের নানা প্রান্ত প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাবে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের একটি নির্দিষ্ট সাবস্টেশনেও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
তবে এই অপ্রত্যাশিত বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও মেট্রো ট্রেন চলাচলের কার্যক্রমে বিন্দুমাত্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড বা ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গোটা দেশ পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার চরম পরিস্থিতি তৈরি হলেও মেট্রো সার্ভিস সচল রাখা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার এই জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনার পরপরই ডিএমটিসিএলের অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল। মূলত উত্তরা সাবস্টেশন থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণে এই স্বস্তি বজায় রাখা সম্ভব হয়।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্দিষ্ট রুটে মেট্রোরেল নিয়মিত চলাচল করে আসছে। পুরো মেট্রো সিস্টেম পরিচালনা করার জন্য উত্তরা এবং মতিঝিল পয়েন্টে মোট দুটি সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। ডিএমটিসিএলের অভ্যন্তরীণ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবারের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর মানিকনগর থেকে বিদ্যুৎপ্রাপ্ত মতিঝিল সাবস্টেশনটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পক্ষান্তরে, টঙ্গী থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া উত্তরা সাবস্টেশনটি সচল ছিল।
মতিঝিল সাবস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহের নেটওয়ার্কটি উত্তরা সাবস্টেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় চলে যায়। ডিএমটিসিএলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর ফলে উত্তরা সাবস্টেশনের উৎপাদিত বা প্রাপ্ত বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করেই মেট্রো ট্রেনগুলোর চলাচল নির্বিঘ্নে চালু রাখা সম্ভব হয়েছিল।
এদিকে ডিএমটিসিএলের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে যদি কোনো কারণে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তবে সেই সংকট মোকাবিলা করে মেট্রো ট্রেন চালু রাখার জন্য তাদের হাতে দুটি ভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো বিশেষভাবে নির্ধারিত ৩৩ কেভি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং অপরটি হলো ইমার্জেন্সি সাব সিস্টেম বা সংক্ষেপে ইএসএস।
উল্লেখিত দুটি বিকল্পের মধ্যে ৩৩ কেভি জরুরি ব্যবস্থাটি হলো মূলত ডিএমটিসিএলের নিজস্ব স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চমৎকার একটি মাধ্যম। জাতীয় গ্রিডের লাইন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে এই নিজস্ব পদ্ধতিটি তৎক্ষণাৎ কার্যকর করা হবে। এই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কমপক্ষে দুই ঘণ্টার মতো সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে মেট্রোরেল চালু রাখা সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত।
এই নিজস্ব জরুরি ব্যবস্থার সমস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ফুরিয়ে যাওয়ার পর খুব সহজেই পরবর্তী বিকল্প হিসেবে ইএসএস চালু করা যাবে। এই ইএসএস পদ্ধতিটি মূলত আধুনিক ব্যাটারির মাধ্যমে বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ সংরক্ষণের একটি বিশেষ কৌশল। কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি বা বিপদের মুহূর্তে এই সংরক্ষিত বিদ্যুৎ অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। এই ব্যাটারি ব্যাকআপ প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও অতিরিক্ত এক ঘণ্টা মেট্রোরেল সচল রাখা যায়।
সহজ কথায় বলতে গেলে, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কোনো কারণে বন্ধ হলে প্রথমে তাদের নিজস্ব জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন মাধ্যম এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাটারিতে জমিয়ে রাখা সংরক্ষিত শক্তি ব্যবহার করা হবে। তবে এই দুটি বিকল্প মাধ্যমের পুরো বিদ্যুৎ ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও যদি এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসে, কেবল তখনই মেট্রোরেল চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করা হবে।
এ বিষয়ে ডিএমটিসিএলের পরিচালক নজরুল ইসলাম পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সারা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হলেও তাদের এই সুনির্দিষ্ট বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে অনায়াসে আরও তিন ঘণ্টা পর্যন্ত মেট্রোরেল চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
Daily Diner Alo