ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত তিন বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত তিন বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্র ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

প্রায় আঠিশ বছর আগে চালু হওয়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র দেশের যেকোনো সাধারণ নাগরিক অনায়াসে ক্রয় করতে পারেন। পরিবার বা পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মতো কিছু নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকায় একে একপ্রকার সর্বজনীন সঞ্চয়পত্র হিসেবে অভিহিত করা যায়, যার লভ্যাংশ প্রতি তিন মাস পরপর গ্রাহক উত্তোলন করতে সক্ষম হন এবং এর সুদের হার অন্যান্য বিশেষ স্কিমের প্রায় কাছাকাছি রয়েছে।

সাধারণত এক লাখ, দুই লাখ, পাঁচ লাখ কিংবা দশ লাখ টাকার পরিমাপে এই সঞ্চয়পত্রগুলো ক্রয়ের সুযোগ রয়েছে। ক্রেতারা দেশের বিভিন্ন জেলা সঞ্চয় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো, অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ডাকঘরের মাধ্যমে এগুলো যেমন কিনতে পারেন, তেমনি প্রয়োজন সাপেক্ষে ভাঙাতেও পারেন।

এই বিশেষ সঞ্চয়পত্রটির মোট মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে তিন বছর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি কোনো গ্রাহক এটি ভাঙাতে যান, তবে সে ক্ষেত্রে তারা প্রদেয় মুনাফা থেকে কম পরিমাণে লভ্যাংশ লাভ করবেন।

গ্রাহক যদি সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত এই খাতে বিনিয়োগ করে তিন বছরের পুরো মেয়াদ সফলভাবে শেষ করেন, তবে তিনি পাবেন ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে আকর্ষণীয় মুনাফা। অবশ্য মেয়াদ পূর্তির আগে ভাঙিয়ে নিলে এই সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

অন্যদিকে, সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি অংক বিনিয়োগ করে যদি তিন বছরের পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করা হয়, তবে বিনিয়োগকারীরা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ হারে মুনাফা পেয়ে থাকেন। এখানেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে ভাঙানো হলে মুনাফার পরিমাণ কমে যায়।

কোনো কারণে যদি মেয়াদপূর্তির আগেই সঞ্চয়পত্র ভাঙানো হয় এবং ইতিপূর্বে গ্রাহককে অতিরিক্ত কোনো অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে সেই অতিরিক্ত অর্থ মূল টাকা থেকে কেটে রাখা হবে।

২০২৩ সালের আয়কর আইনের ১০৫ ধারা অনুযায়ী লভ্যাংশ প্রদানের সময় অগ্রিম কর কর্তন করা হয়। কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন থাকলে ১০ শতাংশ এবং না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কাটা হয়ে থাকে। চলতি বছর থেকে এই অগ্রিম করের অর্থ আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় সমন্বয় করার বিধান চালু করা হয়েছে, কারণ বাজেটের মাধ্যমে একে চূড়ান্ত করদায়ের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

যে সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই সঞ্চয়পত্র কেনার যোগ্য বলে বিবেচিত হন, তাদের একটি নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে। প্রথমত, সব পেশা ও শ্রেণির সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিক এটি কিনতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, ১৯৮৪ সালের আয়কর বিধিমালা এবং ১৯২৫ সালের ভবিষ্য তহবিল আইন অনুযায়ী পরিচালিত স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলগুলো এর অন্তর্ভুক্ত।

তৃতীয়ত, আয়কর অধ্যাদেশ অনুসারে মৎস্য, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, দুগ্ধজাত খামার, বীজ উৎপাদন, উদ্যান প্রকল্প, রেশম চাষ ও ফল চাষের মতো নির্দিষ্ট খাত থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

চতুর্থত, অটিস্টিকদের সহায়তাকারী বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই শর্তে বিনিয়োগ করতে পারে যে লভ্যাংশ অটিস্টিকদের কল্যাণে ব্যয় হবে এবং সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে।

পঞ্চম ও ষষ্ঠত, দুস্থ ও অনাথ শিশুদের নিবন্ধিত আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রবীণদের জন্য অনুমোদিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও এই ক্যাটাগরির সঞ্চয়পত্রে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবে।

ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় পক্ষই নির্ধারিত নিয়মে এই সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের সুযোগ ভোগ করে থাকে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা এবং যুগ্ম নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা সম্ভব।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভবিষ্য তহবিলের মোট স্থিতির অর্ধেক বা সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ফার্মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত হয়েছে দুই কোটি টাকা।

অটিস্টিক সহায়ক প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা, শিশু পরিবার এবং প্রবীণ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর জন্য সর্বোচ্চ বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত।

এই সঞ্চয়পত্র স্কিমের সাথে বেশ কিছু অতিরিক্ত ও আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিনিয়োগকারী প্রতি তিন মাস অন্তর নিয়মিতভাবে মুনাফার অর্থ হাতে পেয়ে থাকেন।

সঞ্চয়পত্রের কোনো ক্রেতার আকস্মিক মৃত্যু হলে তাঁর মনোনীত নমিনি বা উত্তরাধিকারী চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করে পুরো অর্থ তুলে নিতে পারেন। বিকল্প হিসেবে তারা চাইলে মূল মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত পূর্বের নিয়মে প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফাও তুলতে পারবেন।

এছাড়া মেয়াদপূর্তি হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট ইস্যু অফিসে যোগাযোগ করে খুব সহজেই স্বয়ংক্রিয় পুনঃবিনিয়োগ বা অটো রিনেমালের সুবিধা গ্রহণের সুযোগও এখানে বিদ্যমান রয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সাদাকায়ে জারিয়ার গুরুত্ব ও নিষিদ্ধ খাতে অর্থায়ন

সাদাকায়ে জারিয়ার গুরুত্ব ও নিষিদ্ধ খাতে অর্থায়ন